দিনাজপুর · উত্তরাঞ্চল · ২০২৬

কান্তজির মন্দির: দিনাজপুরের টেরাকোটা-ঐতিহ্য

দিনাজপুর · DinajpurNews24 · 2026

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় অবস্থিত কান্তজির মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য। টেরাকোটা কারুকাজে সাজানো এই মন্দির দেখতে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক ভিড় করেন। স্থানীয়ভাবে এটি কান্তনগর মন্দির নামেও পরিচিত।

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি দিনাজপুরের তৎকালীন জমিদার মহারাজা প্রাণনাথ এই মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র রামনাথ ১৭৫২ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। প্রায় আধশো বছর ধরে চলা এই নির্মাণে নিয়োজিত ছিলেন স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরেরা।

স্থাপত্য ও কারুকাজ

তিনতলা বিশিষ্ট মন্দিরটির প্রতিটি ইটে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রামায়ণ, মহাভারত ও পৌরাণিক কাহিনির দৃশ্য। নয়টি শিখর ছিল মূল নকশায়, যার কয়েকটি ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবুও মন্দিরের বাইরের দেয়ালজুড়ে টেরাকোটা অলংকরণ আজও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

কান্তজির মন্দিরের দেয়ালে টেরাকোটা কারুকাজ
প্রতিটি ইটে পুরাণের গল্প — কান্তজির মন্দিরের টেরাকোটা।
  • নির্মাণকাল: ১৭০৪–১৭৫২ সাল
  • নির্মাতা: মহারাজা প্রাণনাথ ও রামনাথ
  • বৈশিষ্ট্য: তিনতলা, টেরাকোটা অলংকরণ
  • অবস্থান: কাহারোল, দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়কপথে দিনাজপুর যাওয়া যায় আন্তঃনগর বাসে, যাতায়াতে সময় লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টা। রেলপথেও দিনাজপুর স্টেশনে পৌঁছানো যায়। শহর থেকে সিএনজি বা বাসে কাহারোল হয়ে সহজেই মন্দিরে পৌঁছানো সম্ভব। শীতকাল ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

ভ্রমণের আগে যা জানা জরুরি

মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশে নির্ধারিত টিকিট কাটতে হয়। ফটোগ্রাফির সুযোগ থাকলেও মন্দিরের ভেতরে শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখা কাম্য। আশপাশে স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাওয়া-থাকার ব্যবস্থা আছে, তবে উন্নত থাকার ব্যবস্থা দিনাজপুর শহরেই বেশি।

তথ্যবিবরণ
অবস্থানকান্তনগর, কাহারোল, দিনাজপুর
নির্মাণ সমাপ্ত১৭৫২ সাল
উপযুক্ত মৌসুমশীত (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি)
দিনাজপুর শহর থেকে দূরত্বপ্রায় ২০ কিলোমিটার

কান্তজির মন্দির শুধু দিনাজপুরের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের স্থাপত্য-ঐতিহ্যের গর্ব। ২০২৬ সালেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণ কার্যক্রমে মন্দিরটি টিকে আছে প্রাণবন্ত ইতিহাস হয়ে। যাঁরা ইতিহাস ও শিল্প ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি জায়গা।